Friday, June 10, 2016

As a career officer in the Armed Forces of the electoral process

As a career officer in the Armed Forces of the electoral process ||
 সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়া

আইএসএসবি সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা
সাধারণ তথ্যাবলী
বছরজুড়েই বিভিন্ন সময় চলতে থাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া। সাধারণত বছরের জানুয়ারি ও জুন মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ক্যাডেট নির্বাচন শুরু হয়। সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে যদি কেউ পেশা গড়তে চান, তবে আপনাকে পার হতে হবে নির্বাচনের বেশ কয়েকটি ধাপ। বাহিনীভেদে প্রাথমিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার ধাপগুলোতে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষনীয়। তবে সশস্ত্রবাহিনীর ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিতে আপনাকে অবশ্যই একটি অভিন্ন ধাপ পার করতে হবে। সেটি হলো আন্ত:বাহিনী নির্বাচন পর্ষদ (ইন্টার সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ড) কর্তৃক নির্বাচন। স্বাধীনতার পর প্রতিটি বাহিনীর ক্যাডেট নির্বাচনের জন্য তাদের নিজ নিজ নির্বাচন বোর্ড কাজ করত। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে স্বাভাবিক ভাবেই প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় তিন বাহিনীর নির্বাচন বোর্ডগুলোকে সমন্বয় করে গঠন করা হয় একটি সমন্বিত বোর্ড। এ বোর্ডটিই হচ্ছে আন্ত:বাহিনী নির্বাচন পর্ষদ (আইএসএসবি)। এ বোর্ডের মূল দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য উপযুক্ত ও যোগ্য কর্মকর্তা নির্বাচন করে দেওয়া।
যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের জন্যই মানবসম্পদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। আর সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য নির্বাচনের সময় বিষয়টি অধিকতর প্রাধান্য পায় সঙ্গত কারনেই। কেননা, এ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে দেশের প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত থাকতে হয়। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের মত আইএসএসবি’তেও কর্মকর্তা প্রার্থীদের যাচাই করা হয় ত্রিমাত্রিক নির্বাচন পদ্ধতিতে (Tri-dimensional Selection System )। ত্রিমাত্রিক পদ্ধতিতে থাকে -পরিবেশগত দিক (Environmental Dimension), শারীরিক দিক (Physical Dimension)এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক (Psychological Dimension)। আইএসএসবি’তে প্রার্থী নির্বাচনে শূন্য পদকে (vacancy) বাদ দিয়ে বিবেচনায় রাখা হয় মানদণ্ডকে (standard)।প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রতি বোর্ডে তিনজন নির্বাচক হিসেবে থাকেন অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সামরিক কর্মকর্তা। একজন মনোবিজ্ঞানী (Psycholgist), একজন দল অভিক্ষা কর্মকর্তা (Group Testing Officer) এবং একজন সাক্ষাতকার কর্মকর্তা (Deputy President)। নির্বাচকমন্ডলী ত্রিমাত্রিক কৌশলে প্রার্থীদের যাচাই বাছাই করেন।আইএসএসবি চার দিন মেয়াদি। তবে নিয়মিত কোর্স এবং অন্যান্য কোর্সের কার্যক্রমের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কোর্স গুলোকেই নিয়মিত কোর্স বলা হয়। স্ব-স্ব বাহিনী তাদের নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সময় অনুযায়ী বিবিধ দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।

প্রথম দিনের কার্যক্রম
নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক নির্বাচন ও লিখিত পরীক্ষার বৈতরণী পেরিয়ে যারা আইএসএসবিতে আসবেন, তাদের প্রথম দিন সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে উপস্থিতি নিশ্চিত (রিপোর্ট) করতে হবে। এরপর তাদেরকে একটি স্বাগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চার দিনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়া হয়।প্রথম দিনের সকালে বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা (Intelligence Test) এবং চিত্র প্রত্যক্ষকরণ ও বর্ণনাকরণ পরীক্ষার (Picture Percetion and Description Test)মাধ্যমে কাজ শেষ হয়।স্ক্রীনিং টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা অতঃপর বিকেলে ব্যক্তিত্ব অভিক্ষায় অংশ নিবেন। এ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর মনস্তাত্ত্বিক দিকসমূহ দেখা হয়। বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা হয় বাচনিক (verbal) ও অবাচনিক (non-verbal) আঙ্গিকে। এতে এমসিকিউ (MCQ) ধরনের প্রশ্ন থাকে যা ওএমআর (OMR)  এর মাধ্যমে যাচাই করা হয়ে অবাচিকে নানা ছবি/চিহ্ন দিয়ে প্রশ্ন করা হয়। থাকে।একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নে নির্ধারিত সময়ে এ পরীক্ষায়  অংশগ্রহনের নিয়মাবলী প্রার্থীদেরকে বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেয়া হয়। বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় যারা ন্যূনতম পাস নম্বর পাবেন না, তাদেরকে স্ক্রীন্ড আউট করা হয়। বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপের চিত্র প্রত্যক্ষকরণ ও বর্ণনাকরণ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন । এ পরীক্ষায় আংশিক অস্পষ্ট চিত্র প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয় এবং সেই ছবি দেখে প্রার্থীদের কল্পনামতো গল্প লিখতে বলা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচকমন্ডলীর উপস্থিতিতে প্রার্থীরা নিজেদের লেখা গল্প নিয়ে দলগত আলোচনা করেন। এ ধাপেও আশানুরূপ ফলাফলে ব্যর্থ প্রার্থীদেরকে স্ক্রীন্ড আউট করা হয়।অবশিষ্ট প্রার্থীরা পরবর্তী তিন দিনের সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ নিবেন। স্ক্রীনিং টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বিকেলে ব্যক্তিত্ব অভিক্ষায় অংশ নিবেন। এ লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর মনস্তাত্ত্বিক দিকসমূহ দেখা হয়। এ পরীক্ষায় প্রার্থীরা বাংলা ও ইংরেজীতে বাক্য সমাপনী (Sentence Completion Test), ইংরেজীতে বাক্য রচনা (Word Association Test), বাংলা ও  ইংরেজীতে ছবি দেখে গল্প লিখন (Thematic Appreciation Test) এবং আত্মবিবরণী (Self Description) অভীক্ষায় অংশগ্রহন করে থাকে। এছাড়াও বাংলা ও  ইংরেজীতে দুটি রচনা লিখতে হয়।
দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম
দলগত পরীক্ষার জন্য সাত-আটজন  প্রার্থীদের নিয়ে আলাদা আলাদা দল গঠন করা হয়। এখানে নির্বাচক থাকবেন দল নিরীক্ষা কর্মকর্তারা (GTO)। এ দিন পাঁচটি ধাপে পরীক্ষা হয়।এসব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের দলগত কাজের ক্ষমতা ও শারীরিক দক্ষতা যাচাই করা হয়ে থাকে। প্রথমেই - দলগত আলোচনা Group Discussion)। এ পর্বে বাংলা ও ইংরেজিতে দুইটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে হয়। তারপর প্রোগ্রেসিভ গ্রুপ টাস্ক (PGT) পর্বে একটি দলকে পর্যায়ক্রমে চারটি বাধা বা প্রতিবন্ধকতা পার করে এগিয়ে যেতে হয়। এরপর অর্ধ দলগত কাজ (HGT) গঠিত হয় তিন-চারজন প্রার্থীদের নিয়ে। এতে একটি বাধা অতিক্রম করতে হয়। পরবর্তীতে প্রার্থীগণ ইংরেজিতে উপস্থিত বক্তৃতায় অংশ নেয়। দ্বিতীয় দিনে গ্রাউন্ডে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা (Individual Obstacle) হচ্ছে শেষ পরীক্ষা। এখানে একজন প্রার্থীকে একাকী আটটি আইটেম অতিক্রম করত হয়।এতে আইটেম হিসেবে রয়েছে -দীর্ঘ লম্ফ (Long Jump), জিগজ্যাগ (Zig Zag), ওয়াল জাম্প (Wall Jump), উচ্চ লম্ফ (High Jump), বার্মা সেতু (Burma Bridge), টারজান সুইং (Tarzan Swing), রশি আরোহণ (Rope Climbing)এবং  ঝুলন্ত কাঠের গুঁড়ি (Swinging Log) থাকে।  দ্বিতীয় দিনের সর্বশেষ ইভেন্ট হলো সাক্ষাৎকার (Intereview)। মুক্ত ও অবাধ এ সাক্ষাৎকারে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও পরিবারের তথ্যাদি এবং তার শিক্ষাগত বিষয়াদি সম্পর্কিত আলোচনা হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়েও বাক্যালাপ হয়ে থাকে। একজন ডেপুটি প্রেসিডেন্ট একজন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকেন ।
তৃতীয় দিনের কার্যক্রম
সকালে পরিকল্পনাকরণ ( Planning Exercise ), নেতৃত্বকাজ ( Command task ), পারস্পরিক সমঝোতা মূল্যায়ন ( Mutual Assessment Test ) এবং শেষে সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে দিনটির কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। প্ল্যানিং এক্সসারসাইজ এ একটি গল্পের মধ্যে বেশ কিছু সমস্যা তুলে করা থাকে। প্রার্থীদের সমস্যাবলী চিহ্নিত করে সমাধান করতে হয়। কমান্ড টাস্কে প্রত্যেক সদস্যকে তিন -চারজনের একটি গ্রুপের দলনেতা বানানো হয়। তাকে পুরো দল নিয়ে একটি বাধা নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রম করতে হয়। পারস্পরিক সমঝোতা মূল্যায়ন পর্বে প্রার্থীদের বিচারিক ক্ষমতা যাচাই করা হয়। এখানে একজন প্রার্থী নিজেকেসহ তার দলের অন্য প্রার্থীদের সেরা তালিকা করতে বলা হয়। এরপর অবশিষ্ট প্রার্থীদের (যাদের সাক্ষাৎকার হয়নি) সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তৃতীয় দিনের কার্যক্রম।
শেষ দিনের কার্যক্রম
শেষদিন কোন পরীক্ষা থাকে না। নির্বাচকমন্ডলী প্রত্যেক প্রার্থীর বিগত তিন দিনের কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়ন করে থাকেন। তারপর নির্বাচিত ও প্রত্যাখ্যাতদের ফলাফল আইএসএসবি,প্রেসিডেন্টের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন।নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে সবুজ কার্ডদেয়া হয়। আর প্রত্যাখ্যাতদেরকে দেয়া হয় লাল কার্ড। সবুজ কার্ডেটিতে উল্লখিত তারিখ হতে এক বছর পর্যন্ত থাকে এ ফলাফলের মেয়াদ। এরপর প্রার্থীদেরকে স্ব-স্ব বাহিনীর প্রথানুযায়ী চিকিৎসা পরীক্ষা ( Medical Test) করাতে হয়। মেডিক্যাল টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে নিজ নিজ বাহিনী হতে যোগদান নির্দেশিকা প্রদান করা হয়।অন্যদিকে প্রথমবার স্ক্রীন্ড আউট অথবা প্রত্যাখাত প্রার্থীরা প্রথানুযায়ী দ্বিতীয়বার সুযোগ নিতে পারবেন। তবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পাঁচ মাস এবং স্ক্রীন্ড আউট হওয়ার চার মাসের মধ্যে সেই প্রার্থী আইএসএসবিতে আসতে পারবেন না।

পরিশিষ্ট
প্রার্থীদেরকে প্রেরিত কলআপ লেটারে আইএসএসবি’তে অবস্থানকালীন চার দিনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা থাকে। যেমন, প্রার্থীদেরকে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্র, প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র, লেখার সরঞ্জামাদি (২বি পেন্সিলসহ),পরিধেয় বস্ত্রাদি ইত্যাদি অবশ্যই সঙ্গে নিতে হয়।অন্যদিকে ক্যামেরা, অডিও/ভিডিও, ছুরি, মোবাইল ফোন, পোষা প্রাণী, নেশাজাতীয় দ্রব্য/পণ্য, আগ্নেয়াস্ত্র এবং সরকারের নিষিদ্ধ জিনিসপত্র সাথে আনা যাবে না।এছাড়াও মূল্যবান কোনো কিছু সঙ্গে আনা যাবে না। উল্লেখ্য, আইএসএসবি’র ওয়েবসাইট www.issb-bd.org এ প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা আছে।আগ্রহী প্রার্থীরা প্রয়োজনে ই-মেইল করতে পারেন info@issb-bd.org  ঠিকানায়।অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে অনেক প্রার্থী আইএসএসবি’তে নির্বাচন সংক্রান্ত বিবিধ কোচিং করে নানা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন। এতে করে অনেকেই নিজেদের স্বাভাবিক যোগ্যতা অনুযায়ী ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হন। মূলতঃ আইএসএসবিতে নির্বাচনের জন্য কোচিং এর প্রয়োজন হয় না । তাই কোচিং এর ব্যাপারে সকল প্রার্থীদেরকে অবশ্যই সচেতন এবং সতর্ক থাকতে হবে। পরিশেষে, সশস্ত্রবাহিনীতে যোগ দেয়ার স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সে স্বপ্ন পূরণে প্রার্থীদেরকে আন্তরিক ও সচেষ্ঠ হতে হবে।  সৎ, সাহসী, প্রানচঞ্চল, কর্মঠ এবং আত্মত্যাগী তরুণ – তরুণীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থান হতে পারে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী।।
সূত্রঃ
সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে যদি কেউ পেশা গড়তে চান, তবে আপনাকে পার হতে হবে নির্বাচনের বেশ কয়েকটি ধাপ। এ ধাপগুলোর মধ্যে বিষেষ গুরুত্বপুর্ণ ধাপটি হচ্ছে আন্ত:বাহিনী নির্বাচন পর্ষদ বা ইন্টার সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ড (আইএসএসবি) কর্তৃক নির্বাচন।
As a career officer in the Armed Forces of the electoral process ||  সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়া

Reactions:

0 comments:

Post a Comment

Thanks for comments